
বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাবলিক লাইব্রেরিটি পুনরায় চালুর পেছনে প্রয়াত সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়। স্থানীয়দের মতে, তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং নিরলস পরিশ্রমে লাইব্রেরিটির পুনর্গঠন ও চালুকরণের অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছিল।
কিন্তু দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে ফেরদৌস আরার মৃত্যুর পর লাইব্রেরির কার্যক্রমও কিছু সময়ের জন্য স্থবির হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে লাইব্রেরিটি চালু হলেও এর নামকরণ নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী, পাঠক ও সচেতন মহলের মধ্যে আলোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, লাইব্রেরি পুনরুজ্জীবনে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠানের নাম “ফেরদৌস আরা স্মৃতি পাবলিক লাইব্রেরি” রাখা হবে। বিকল্পভাবে অনেকে “বাঞ্ছারামপুর পাবলিক লাইব্রেরি” নামেরও প্রস্তাব দেন। তবে সম্প্রতি লাইব্রেরিটির নাম “উপজেলা প্রশাসন গ্রন্থাগার” রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলের অভিমত, যে কর্মকর্তা দীর্ঘদিনের অচল একটি গণপাঠাগারকে পুনরায় সচল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাঁর অবদানকে যথাযথভাবে স্মরণ ও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, একজন মানুষের জীবনাবসান ঘটলেও তাঁর কর্ম ও জনকল্যাণমূলক অবদান সমাজে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী, পাঠক এবং সচেতন নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকির দৃষ্টি আকর্ষণ করে লাইব্রেরির নাম পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রয়াত ফেরদৌস আরার অবদানকে সম্মান জানিয়ে “ফেরদৌস আরা স্মৃতি পাবলিক লাইব্রেরি” অথবা “বাঞ্ছারামপুর পাবলিক লাইব্রেরি” নামকরণ করা হলে তা বাঞ্ছারামপুরবাসীর আবেগ ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি শুধু একজন কর্মকর্তার স্মৃতিকে সংরক্ষণ করার বিষয় নয়; বরং জনস্বার্থে নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করা একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার অবদানের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনেরও বিষয়।
Leave a Reply