
মোহাম্মদ সেলিম রেজা
সম্পাদক ও প্রকাশক
ক্ষমতা মানুষকে বদলে দেয়—কখনো ইতিবাচকভাবে, কখনো ভয়ংকরভাবে। যে মানুষটি একসময় সাধারণ মানুষের ভালোবাসা, সহকর্মীদের সহযোগিতা, সংগঠনের শক্তি কিংবা কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যমের ওপর ভর করে উঠে আসেন, ক্ষমতার চেয়ারে বসার পর অনেক সময় সেই উৎসকেই ভুলে যান। তখন তিনি ভাবতে শুরু করেন—ক্ষমতা বুঝি তাঁর নিজের অর্জন, তাঁর একার শক্তি। আর এখানেই শুরু হয় পতনের পথ।
বাস্তবতা হলো, কেউ শূন্য থেকে ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন না। পেছনে থাকে মানুষ, সংগঠন, সমর্থন, অর্থ, শ্রম, ত্যাগ কিংবা কোনো একটি নির্দিষ্ট শক্তি। সেই শক্তিকে অবমূল্যায়ন করে সাময়িকভাবে প্রভাব ধরে রাখা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে তা সম্ভব নয়।
রাজনীতিতে এর শিক্ষা আরও স্পষ্ট। জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসা ব্যক্তি যদি জনগণকেই ভুলে যান, কর্মীদের ত্যাগকে মূল্যহীন মনে করেন কিংবা যারা দুঃসময়ে পাশে ছিলেন তাদের দূরে সরিয়ে দেন, তাহলে একসময় সেই উপেক্ষিত মানুষগুলোই মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। তখন ক্ষমতার চারপাশে লোক থাকলেও প্রকৃত শক্তি আর থাকে না।
একইভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান, সংগঠন কিংবা নেতৃত্ব যে কর্মী ও সমর্থকদের ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে ওঠে, তাদের অবদান অস্বীকার করলে ভিত দুর্বল হয়ে যায়। কারণ নেতৃত্বের শক্তি শুধু পদে নয়—তার পেছনে থাকা মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসেই তার প্রকৃত শক্তি নিহিত।
ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, উত্থানের সময় যাকে প্রয়োজন মনে করা হয়, পতনের সময় তাকেই সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয়। কিন্তু তখন অনেক সময় ফিরে যাওয়ার পথ থাকে না।
তাই ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো নিজের উৎসকে মনে রাখা। কে তাকে তুলে এনেছে, কারা পাশে ছিল, কার ত্যাগে আজকের অবস্থান—এসব ভুলে গেলে ক্ষমতা যত বড়ই হোক, তার ভিত্তি ততটাই দুর্বল হয়ে পড়ে।
উৎসকে অবহেলা করা মানে নিজের ভিত্তিকেই দুর্বল করা। আর যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে উত্থান, সেই ভিত্তি নড়বড়ে হলে পতন ঠেকানো কঠিন।
মনে রাখা দরকার—যে উৎস, মাধ্যম বা শক্তির বলে জন্ম, উত্থান কিংবা ক্ষমতা লাভ, শেষ পর্যন্ত সেই উৎসের শক্তিই হয়ে উঠতে পারে পতনের কারণ। তাই উৎসকে সম্মান করুন, শিকড়কে ভুলবেন না। কারণ—উৎসকে অবহেলা করলে পতন অনিবার্য।
Leave a Reply