
টানা বর্ষণে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বর্নি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গত তিন দিন ধরে মাদ্রাসার মাঠ ও শ্রেণিকক্ষগুলো বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর কোনো ড্রেন বা নালা না থাকায় প্রতি বছরই এমন দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে নূরানী বিভাগেই রয়েছে প্রায় ২০০ জন কোমলমতি শিশু। দিনাজপুর, বরিশাল, বাগেরহাট, নোয়াখালী, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অনেক শিক্ষার্থী এখানে আবাসিক ও অনাবাসিক হিসেবে পড়াশোনা করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নূরানী বিভাগের শ্রেণিকক্ষে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। বৃষ্টির পানি ঢুকে বই-খাতা, বিছানাপত্র ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। শ্রেণিকক্ষ পানিতে ডুবে থাকায় গত তিন দিন ধরে কোনো ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মাদ্রাসার সহকারী মোহতামিম মাওলানা ইমদাদুল হক বলেন, “প্রতি বর্ষা মৌসুমেই আমরা এমন ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হই। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো মাদ্রাসা তলিয়ে যায়। পানি বের হওয়ার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কোমলমতি শিশুদের পাঠদান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আমরা সরকার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দ্রুত একটি স্থায়ী ড্রেন নির্মাণের ব্যবস্থা করার আবেদন জানাচ্ছি।”
নূরানী বিভাগের শিক্ষক মুফতি সাইফুল বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই নূরানী বিভাগটি প্রথমে পানিতে তলিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
মাদ্রাসার আরেক শিক্ষক মাওলানা মেহরাফ হোসেন নোমানী বলেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দরিদ্র ও এতিম শিশুরা এখানে পড়তে আসে। অথচ পুরো মাদ্রাসা এখন পানির নিচে। দ্রুত একটি ড্রেন নির্মাণ করা হলে শিশুদের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ফিরে আসবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্নি গ্রামের অন্যতম বৃহৎ এই দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই ধরনের জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
এ অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এবং এতিম ও কোমলমতি শিশুদের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী ড্রেন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসন, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
Leave a Reply