
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী ইউনিয়নে পেঁপে খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ১০ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ৬৫ বছর বয়সী মতি মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন।
মামলার বাদী শিশুটির মা মনিরা বেগম জানান, গত ২৩ আগস্ট দুপুরে তাঁর প্রতিবন্ধী মেয়েকে পেঁপে দেওয়ার কথা বলে মতি মিয়া বাড়ির পাশের একটি বাগানবাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় শিশুটির চিৎকারে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান বলে দাবি করেন শিশুটির মা।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো বিচার না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
শিশুটির মা মনিরা বেগম বলেন, “আমার অবুঝ মেয়ের ওপর যে অন্যায় হয়েছে, তার সঠিক ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর প্রতিবন্ধী মেয়েকে ধর্ষণের কথা ছড়িয়ে পড়লেও সেটি সঠিক নয়। তাঁর অভিযোগ, মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে এবং এ অভিযোগেই আদালতে মামলা করা হয়েছে।
সালিশের নামে কালক্ষেপণের অভিযোগ
শিশুটির চাচা খোকা মিয়া বলেন, “আমার ভাই প্রবাসী। আমরা অসহায় পরিবার। ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউপি সদস্যদের জানানো হলে তাঁরা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার আশ্বাস দেন। কিন্তু কয়েকদিন পার হলেও কোনো বিচার না করে কালক্ষেপণ করা হয়। উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে।”
পরে বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম হায়দার বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা বের করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কেউ যেন অপরাজনীতি বা ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে না পারে, সেটিও খেয়াল রাখতে হবে।”
রূপসদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কুদ্দুস মেম্বার বলেন, “অপরাধী যে-ই হোক, আমরা তাঁর কঠিনতম শাস্তি চাই। তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে।”
অভিযোগ অস্বীকার, ষড়যন্ত্রের দাবি
অভিযুক্ত মতি মিয়ার বাড়িতে সরেজমিনে গেলে তাঁর স্ত্রী অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র দাবি করে বলেন, তাঁদের চার ছেলে প্রবাসী এবং এক মেয়ে বিবাহিত। পরিবারের বিত্তবৈভবের কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্ত মতি মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর জানতে চাইলে তাঁর স্ত্রী তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে অভিযুক্ত মতি মিয়ার সরাসরি বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, “আমি ঘটনাটি শুনেছি। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। আদালত থেকে নির্দেশনামা পেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে দাবি করে স্থানীয়রা পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, শিশুটির সুরক্ষা ও প্রচলিত আইনগত বিধান বিবেচনায় প্রতিবেদনে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। মামলার অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
Leave a Reply