রূপসদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থী, রাজনীতি-সমাজসেবায় সক্রিয় দেলোয়ার হোসেন, বাড়ছে আলোচনা
বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থীর নাম আলোচনায় থাকলেও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সম্পৃক্ততার কারণে উপজেলা বিএনপির ১ নম্বর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেনকে ঘিরে আলোচনা বাড়ছে।

রূপসদী ইউনিয়ন হোগলাকান্দি, খাউরপুর ও রূপসদী—এই তিনটি গ্রাম নিয়ে গঠিত। ইউনিয়নে মোট ভোটার ২০ হাজার ৯১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৪৯৪ জন এবং নারী ভোটার ১০ হাজার ৪২২ জন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্ভাব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে কে প্রার্থী হতে পারেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। হাট-বাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন আড্ডায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির ১ নম্বর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং রূপসদী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকা সিটি সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যাত্রাবাড়ী মিরহাজীরবাগ সিএনজি সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যবসার সঙ্গেও তিনি জড়িত।

তার সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দেলোয়ার হোসেন দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। ২০০৯ সালের পর থেকে রূপসদী ইউনিয়নে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করতে তিনি মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তারা জানান।
২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দেলোয়ার হোসেন। ওই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। তার সমর্থকদের অভিযোগ, সে সময় ভোটে কারচুপি হয়েছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষামূলক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে দেলোয়ার হোসেন সহযোগিতা করেছেন বলেও তার সমর্থকদের দাবি। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ইউনিয়নের মানুষের একটি অংশের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এলাকার শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক সেবা উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা রয়েছে তাদের। তবে নির্বাচনের তফসিল, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং অন্যান্য প্রার্থীদের অবস্থানের ওপর ভোটের সমীকরণ অনেকটাই নির্ভর করবে।
এদিকে জনমত জরিপে দেলোয়ার হোসেন এগিয়ে রয়েছেন বলে তার সমর্থকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও জরিপটির পদ্ধতি, নমুনা ও ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এটিকে আনুষ্ঠানিক বা বৈজ্ঞানিক জনমত জরিপ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
চেয়ারম্যান পদে নিজের অবস্থান সম্পর্কে মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমর্থন পেলে রূপসদী ইউনিয়নের শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, নাগরিক সেবা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে কাজ করতে চান। এ জন্য তিনি ইউনিয়নবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই সম্ভাব্য প্রার্থী ও ভোটারদের সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।