বাঞ্ছারামপুরে খাল পুনঃখনন শেষে ২৮ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে সাশ্রয় হওয়া ২৭ লাখ ৯৫ হাজার ৩১ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় না হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খাল পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে ০.৭৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কাটাখালী (কুমাইরা) খাল এবং প্রায় ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে তেজখালী ইউনিয়নের ১.২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের লটিয়ার খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হয়।
গত ২৫ এপ্রিল স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন করেন।
প্রকল্পের আওতায় খালের দখলমুক্তকরণ, সরকারি নকশা অনুযায়ী খনন, দুই পাড় বাঁধাই এবং বৃক্ষরোপণের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
সূত্র জানায়, প্রকল্প দুটির কাজ শেষে মোট ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ২৩৮ টাকা ব্যয় হয়। ফলে বরাদ্দের ২৭ লাখ ৯৫ হাজার ৩১ টাকা উদ্বৃত্ত থাকে, যা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দুইটি স্থানে মোট ১.৯০ কিলোমিটার খাল গড়ে ৭ থেকে ৮ ফুট গভীর এবং ৩০ থেকে ৪০ ফুট প্রস্থে খনন করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে একাধিকবার পাড় মেরামত করতে হয়েছে। এছাড়া একটি খালের একপাশে বিভিন্ন প্রজাতির ২২০টি গাছ রোপণ করা হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, “খাল খনন প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগের একটি প্রকল্প। বাঞ্ছারামপুরের দুইটি ইউনিয়নের মধ্যে একটি খাল সম্পূর্ণভাবে নকশা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে অন্য খালটির কাজ প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে বরাদ্দের একটি অংশ উদ্বৃত্ত থাকে, যা আজ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”