বাজেটের আকার বড় হলেও কৃষিখাতে বরাদ্দ হতাশাজনক: দেওয়ান নীলু

ঢাকা, ২০ জুন: গণসংহতি আন্দোলন-জিএসএর প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) ও বাংলাদেশ কৃষক মজুর সংহতির সভাপতি দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু বলেছেন, কৃষিকে অবহেলার চোখে দেখার প্রবণতা দেশের জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। তিনি কৃষি ও কৃষকবান্ধব বাজেট প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে হাওর অঞ্চলের জন্য বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (২০ জুন) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব-এর মওলানা আকরাম খাঁ সেমিনার হলে বাংলাদেশ কৃষক মজুর সংহতির উদ্যোগে আয়োজিত “কৃষক বাজেট (২০২৬-২৭): কৃষিখাতের সংকট ও সাম্প্রতিক হাওর বিপর্যয়” শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেওয়ান নীলু বলেন, বর্তমান জাতীয় বাজেটের আকার বড় হলেও কৃষিখাতে বরাদ্দ হতাশাজনক। হাওর অঞ্চলকে বিশেষ দুর্যোগপ্রবণ এলাকা ঘোষণা করে পৃথক বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষক যাতে তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পায়, সে জন্য সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সেমিনারে ‘হাওড়ের আর্তনাদ’ শিরোনামে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষক মজুর সংহতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম। তিনি বলেন, কৃষিখাতে জিডিপির সমপরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি এবং মোট জাতীয় বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তার মতে, বর্তমান বাজেট কৃষিবান্ধব নয় এবং এতে নানা অসামঞ্জস্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় আসার পর অন্যদের অজ্ঞ বা মূর্খ ভাবার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে এসে কৃষি ও কৃষকবান্ধব নীতি গ্রহণ করতে হবে।
গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক শিল্পে রূপান্তরের জন্য বর্তমান বাজেট যথেষ্ট নয়। তিনি কৃষি গবেষণা, ফসল সংরক্ষণ এবং আধুনিক বিপণন অবকাঠামো উন্নয়নে অধিক বরাদ্দের আহ্বান জানান।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বরকত উল্লাহ মারুফ বলেন, সরকার যে পরিমাণ ভর্তুকি দেয়, তার চেয়ে বেশি ভর্তুকি কৃষক নিজেই দেন। কৃষকরা উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম দামে কৃষিপণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন।
প্রবীণ কৃষক সংগঠক আব্দুল মান্নান ভাসানী বলেন, দেশের কৃষকরাই কৃষিখাতে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী। কিন্তু তারা তাদের বিনিয়োগের যথাযথ প্রতিফলন পান না। একই সঙ্গে কৃষি গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে না পারার বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
হাওর অঞ্চলবাসীর সমন্বয়ক ড. হালিম দাদ খান হাওর অঞ্চলের জন্য পৃথক দুর্যোগ বাজেট প্রণয়নের দাবি জানিয়ে বলেন, হাওর উন্নয়ন বোর্ডকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও জনসম্পৃক্ত করতে হবে এবং বিদ্যমান মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি।
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ রুমী, বাচ্চু ভূঁইয়া এবং মো. খালেদ হোসাইন। এছাড়া বিভিন্ন কৃষক সংগঠন, সামাজিক সংগঠন ও গণসংহতি আন্দোলনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।