
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে নিখোঁজের ৬ দিন পর তিতাস নদী থেকে মুকবুল হোসেন গুড্ডু (৩৮) নামে এক ড্রেজার ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের মিরপুর এলাকায় নদীর পানির তলদেশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মুকবুল হোসেন ছলিমাবাদ ইউনিয়নের পাঠামারা গ্রামের মৃত মোহন মিয়া ব্যাপারীর ছেলে। তিনি তিতাস নদীতে বালু উত্তোলনের একটি ড্রেজার ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের বড় ভাই বাবুল মেম্বার জানান, গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার পর ড্রেজার থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন মুকবুল। ঘটনার পর আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা নদীসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
জানা গেছে, একই এলাকা থেকে রুবেল মিয়া নামে মুকবুলের আরেক ব্যবসায়িক পার্টনারও নিখোঁজ হয়েছিলেন। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হলে শনিবার রাত ১০টার দিকে রুবেলকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মুকবুলের কোনো সন্ধান না পেয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। রোববার সকাল ৮টা থেকে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একটি ডুবুরি দল তিতাস নদীর মিরপুর এলাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তল্লাশির পর দুপুর দেড়টার দিকে নদীর পানির তলদেশে একটি নৌকার সঙ্গে লোহার অ্যাঙ্গেল ও রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় মুকবুলের হাত-পা বাঁধা মরদেহ খুঁজে পান ডুবুরিরা। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের লিডার মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে ডুবুরি আশিক মাহমুদ ও দেলোয়ার হোসাইন এ উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, পুলিশি তথ্যের ভিত্তিতে সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসকে সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি চালানো হয় এবং দুপুরে পানির তলদেশ থেকে বাঁধাবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাঈদ বলেন, "বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।"
এদিকে তিতাস নদী থেকে নৃশংসভাবে বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মুকবুলকে কীভাবে হত্যা ও গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।